ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
⌖ সকল প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হাসপাতাল · গৌরনদী · বরিশাল · বরিশাল
“স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স নবায়ন এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের নজরদারির বাইরেও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের বেশ কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি ও অবৈধ লেনদেন চলে। প্রথমত, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বাধ্যতামূলক পরিবেশ ছাড়পত্র (Environmental Clearance) এবং ফায়ার সার্ভিস থেকে ফায়ার লাইসেন্স নেওয়া ও নবায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট শর্ত পালনের চেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ঘুষের দাবি। দ্বিতীয়ত, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে ও তেজস্ক্রিয় যন্ত্রপাতি পরিচালনার পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) থেকে অনাপত্তিপত্র বা অ্যাপ্রুভাল নেওয়ার ধীরগতির প্রক্রিয়াকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিদর্শকরা নিয়মিত মাসোহারা দাবি করে। তৃতীয়ত, হাসপাতালে রেজিস্টার্ড নার্স, ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় ডিউটি ডাক্তার নিয়োগের সরকারি অনুপাত বজায় রাখা গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবসম্মত না হওয়ায় এই টেকনিক্যাল ঘাটতিগুলোকে ঢাল বানিয়ে থানা ও জেলা পর্যায়ের তদারকি দলগুলো প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া ফার্মেসি বা হাসপাতালের ইন-হাউস ড্রাগ স্টোরের ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার (Medical Waste Management) ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারি পরিদর্শন দলগুলোর অনৈতিক লেনদেনের সংস্কৃতি রয়েছে। পূর্বের সামারির সাথে এই বিষয়গুলো যুক্ত করলে মূল চিত্রটি দাঁড়ায়: একদিকে বাস্তবতাবিবর্জিত লাইসেন্সিং ও ড্রাগ, ফায়ার বা রেডিয়েশন ছাড়পত্রের মতো জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি—এই সবকিছুর সুযোগ নিয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় পরিদর্শকরা নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে। এই প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখতে অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, আর চূড়ান্ত পর্যায়ে পুরো অব্যবস্থাপনার দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের ঘাড়ে।”