ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
⌖ ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন · ডবলমুরিং · চট্টগ্রাম · চট্টগ্রাম
“১. আমি সম্প্রতি ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স শাখায় আবেদন করি। সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও সংশ্লিষ্ট ট্রেড লাইসেন্স ইন্সপেক্টর (নাম জানা থাকলে উল্লেখ করুন) এবং তার সহযোগীরা ১,৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) থেকে ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। ২. যখন আমি এই অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাই, তখন তারা সরাসরি বলেন, "টাকা না দিলে কাগজপত্র ঠিকমতো হবে না, নবায়ন হয়ে যেতে দেরি হবে, আমরা নিজেরাই করতাম।" এভাবে তারা সরকারি কাজে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব, হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ৩. আমি জানতে পেরেছি যে, ট্রেড লাইসেন্সগুলো এরিয়া ভিত্তিক বিভিন্ন ইন্সপেক্টরদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এই ভাগবণ্টনের উদ্দেশ্য যদি কেবল সরকারি দায়িত্ব পালন হয়, তবে এই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। স্পষ্টতই, এই ভাগবণ্টন ব্যবস্থাটি নিয়মিত ঘুষ আদায় ও চাঁদাবাজির জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে। ৪. এটি কেবল আমার একার অভিজ্ঞতা নয়। আমার এলাকার প্রায় প্রতিটি ব্যবসায়ীকেই এই বাধ্যতামূলক অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পান না, কারণ ভয় থাকে যে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল বা নবায়নে অযৌক্তিক দেরি করা হতে পারে। ফলে এই অনৈতিক প্রথা চলমান রয়েছে। ৫. আমি মনে করি, সরকার পরিবর্তন হলেও এই সেক্টরগুলো এখনও পুরনো দুর্নীতিবাজ চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিরুপায় হয়ে এই অন্যায় মেনে নিচ্ছেন। আইনি ভিত্তি: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (সংশোধিত) অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে সরকারি নির্ধারিত ফি'র বাইরে কোনো অতিরিক্ত টাকা আদায় আইনত দণ্ডনীয়। এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার — স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার লঙ্ঘন। প্রার্থনা: এই পরিপ্রেক্ষিতে, আমি বিনীতভাবে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি: ক) অভিযুক্ত ট্রেড লাইসেন্স ইন্সপেক্টর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। খ) ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ না থাকে। গ) সরকারি নির্ধারিত ফি'র তালিকা প্রতিটি কাউন্টারে প্রদর্শন এবং অনলাইনে প্রকাশ করা।”