বাড়ি / আবাসিক এলাকা
⌖ কান্দিরপাড় · কুমিল্লা সদর দক্ষিণ · কুমিল্লা · চট্টগ্রাম
“আপনার বক্তব্যটি একটু গুছিয়ে, আবেগ ও ঘটনাটির গুরুত্ব বজায় রেখে এভাবে লেখা যায়: আমার বেবি জন্মগ্রহণের আনুমানিক দুই মাস পরের ঘটনা। একদিন বাসার বারান্দায় বেবির কাঁথা শুকাতে দিয়েছিলাম। কীভাবে যেন হিজড়া সম্প্রদায়ের কয়েকজন সেটা দেখে ফেলে। এরপর তাদের দুজন বাসায় এসে দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। প্রথম দিন আমি ভয়ে দরজা খুলিনি। কিছুদিন পর তারা আবার এসে একইভাবে দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। বাসায় বাচ্চা ও মহিলারা থাকায় কোনো ধরনের হেনস্তা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় আমি দরজা না খুলে দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে ১,৫০০ টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা সেই টাকা নিতে রাজি হয়নি। তাদের দাবি, ৩,০০০ টাকা দিতে হবে। ১,৫০০ টাকা তাদের কাছে কম! আমি ২,০০০ টাকা দিয়েও বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করি। তাতেও তারা রাজি হয়নি। একপর্যায়ে তারা ৩,০০০ টাকা না দিলে তাদের পুরো দলকে বাসার সামনে ডেকে আনার কথা বলে ফোন করতে শুরু করে। দলবল আসার আগেই, বাসায় বাচ্চা ও মহিলাদের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য হেনস্তার কথা চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ৩,০০০ টাকা দিয়ে দিই। টাকাটা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনেকক্ষণ ভাবলাম। মনে হলো, এই ধরনের জোরপূর্বক টাকা আদায়ের ঘটনায় আসলে কার কাছে অভিযোগ করব? একদিকে যেমন এ ধরনের হয়রানি বা জোর করে টাকা আদায়ের কোনো ঘটনাকে মেনে নেওয়া যায় না, অন্যদিকে এটাও সত্য যে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র এখনো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করতে পারেনি। তবুও কারও অসহায়ত্ব বা সামাজিক বঞ্চনার দায় সাধারণ মানুষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সমাধান হতে পারে না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমিও নিরাপদে নিজের বাসায় থাকতে চাই, ভয় বা হেনস্তার আশঙ্কা ছাড়াই। শেষ পর্যন্ত কার কাছে অভিযোগ করব, কীভাবে বিষয়টির সমাধান হবে, তা ভেবে কোনো উত্তর পেলাম না। তাই নিজের অভিযোগ নিজের কাছেই রেখে নিজেকেই সান্ত্বনা দিলাম।”